নির্বাচনের পর বিএনপি’র গণেশ কি আসলেই উল্টে গিয়েছে ?
মোকাররম মামুনসরকার গঠনের পর বিএনপির গণেশ উল্টে গেছে। তারা বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করায় সংসদীয় বিশেষ কমিটির সমন্বয়ে যে সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা না মেনে নিজেদের মতো করে জনগণের স্বার্থ বিরোধী বিভিন্ন আইন পাস করছে। ফলে, বিএনপি’র ওপর বিরোধী দল বা জামায়াতের যে বিশ্বাস ছিল তা আর নেই বলে সংসদে ও সংসদের বাহিরে বলছে বিরোধী দল। প্রশ্ন হচ্ছে, আসলেই কি সরকার গঠনের পর বিএনপির গণেশ উল্টে গেছে ? বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১১ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট চার বার সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করে বিরোধী দল। বিরোধী দলের বার বার ওয়াকআউটে সাধারণের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে স্যোসাল মিডিয়ায় এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে শুক্রবার মগবাজারে আল ফালাহ সেন্টারে জামায়াতের আমিরের বক্তব্য এবং এর আগে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের খোলা চিঠি ও কর্মকর্তাদের পদত্যাগ এবং বিএনপিকে নিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলামের বিভিন্ন বক্তব্য জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেওয়ার অন্যতম কারণ। ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান। একইদিন বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বে তার সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদেরও শপথ পড়ানোর মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর সংবিধান অনুযায়ী কোনো সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বান করার নিয়মে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন। সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষায় স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত ভাষণ দেওয়ার আহ্বান করলে সংসদে উপস্থিত হোন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে আপত্তি জানিয়ে সংসদে হইচই করে বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা প্রথমবারের মতো ওয়াক আউট করে সংসদস্থল ত্যাগ করেন। সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে সমাধান না হওয়ায় সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে আইনমন্ত্রীকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করার অভিযোগ এনে পহেলা এপ্রিল বিরোধী দল সংসদ অধিবেশন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়াক আউট করে সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করে। ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে তৃতীয়বারের মতো গত ৯ এপ্রিল ওয়াক আউট করে বিরোধী দল। ওয়াকআউটের আগে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সে দিন পাস করা আইনগুলোর বিষয়ে বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও পাস করায় তা গণবিরোধী বিল পাস হয়েছে দাবি করেন। যদিও বিরোধী দল ওয়াকআউট করার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ফ্লোর নিয়ে আইন প্রক্রিয়ার ফাস্ট, সেকেন্ড ও থার্ড রিডিংসহ সকল প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল সহায়তা করে এবং কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও করেছেন বলে জানান। তারপরও সমস্ত প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পরে ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কি-না এমন প্রশ্ন রাখেন। ১০ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে চতুর্থবারের মতো ওয়াকআউট করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট। জামায়াতের অভিযোগ, সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকের সমঝোতার ব্যত্যয় ঘটিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল সংশোধিত আকারে পাস করায় সরকারি দলের প্রতি তাদের বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে। এক মাসের মধ্যে দুই সপ্তাহের মতো প্রথম অধিবেশনে চার বার সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াক আউট করাকে অনেকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বলছে, জুলাই সনদ আর গণভোট নিয়ে কথায় কথায় বিরোধী দলের ওয়াক আউট করে সংসদ বর্জন করার যুক্তি কতটুকু। আর ওয়াক আউট করা হলে সাংসদদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা সমাধানের বা উন্নয়ন ক্ষেত্রও তা কি বাঁধাগ্রস্থ্য হয়না? জাতীয় সংসদ-এ বিরোধী দল বা কোনো দলীয় জোটের সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করলেই যে স্থানীয় এলাকার সমস্যা সমাধান বা উন্নয়ন ক্ষেত্র বাঁধাগ্রস্থ্য হয় কথাটা ঠিক না। কারণ, জাতীয় সংসদ-এর মূল কাজ হলো আইন প্রণয়ন, বাজেট পাস করা এবং সরকারের কার্যক্রম তদারকি করা। কোনো দল বা সদস্যের ওয়াকআউটের অর্থ হচ্ছে সাধারণত রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা অসন্তোষ প্রকাশের একটি পদ্ধতি। তবে, দীর্ঘ সময় যদি কোন সদস্য বা জোট সংসদে অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তার এলাকার সমস্যাগুলো মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্টদের সামনে তুলে ধরা যায় না। ফলে বাজেট করার সময় ওয়াক আউট করা সদস্যের স্থানীয় সমস্যা উত্থাপিত না হওয়ায় তা রেখেই বাজেট হলে সে ক্ষেত্রে এলাকার উন্নয়নের বাধা বা সমস্যা হতে পারে। যদিও কোন দল, গোষ্ঠি বা সদস্য সংসদ থেকে ওয়াক আউট করার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। প্রতিবাদ স্বরূপ সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত, আইন বা বক্তব্যের বিরোধিতা করতে সংসদ থেকে বের হয়ে যাওয়া। যাকে প্রতীকী প্রতিবাদ বলা হয়। আবার সংসদে কথা বলার সুযোগ না পাওয়া গেলে বা বৈষম্য করা হচ্ছে এমন সুষ্পষ্ট কারণে প্রতিবাদ স্বরূপ ওয়াক আউট করা। কোন বিষয়ে বা নির্দিষ্ট ইস্যুতে অসন্তোষ থাকলে সংসদ বর্জন বা ওয়াকআউট করতে পারে অথবা সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতেও ওয়াক আউট করতে পারে বিরোধী দল। যে সকল বিষয়ে বিরোধী দল ওয়াক আউট করেছে সে সকল বিষয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্ত কি ছিল, আর সরকারি দল যখন ওই একই বিল সংসদে উত্থাপন করেছে তখন কি পরিবর্তন করা হয়েছে, যে বিল বা সংশোধনীর বিষয়ে তারা অবগত নয় এবং তা জনস্বার্থ বিরোধী আইন বলে দাবি করছে বিরোধী দল ?বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলের ওয়াক আউট করার একমাত্র কারণ হচ্ছে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও ভাষণ প্রদান। পহেলা এপ্রিল প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াক আউটের কারণ ‘গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে দেওয়া নোটিশের প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ। গত ৯ এপ্রিল পাস করা আইনগুলোর বিষয়ে বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও সংসদে ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে তৃতীয়বারের মতো ওয়াক আউট করে বিরোধী দল। ১০ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যায় 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬' সংশোধিত আকারে পাশের প্রতিবাদ, সরকারি দলের বিশ্বাসভঙ্গ এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগে বিরোধী দলকে ওয়াক আউট করতে দেখা যায়। প্রথম ওয়াক আউটের বিষয়ে সংবিধানের পঞ্চম ভাগে আইনসভার সংসদ বিষয়ে প্রথম পরিচ্ছেদে ৭৩ এর (১) এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান এবং বাণী প্রেরণ করিতে পারিবেন। (২) এ বলা হয়েছে, সংসদ-সদস্যদের প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় এবং প্রত্যেক বৎসর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান করিবেন। (৩) এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণ শ্রবণ বা প্রেরিত বাণী প্রাপ্তির পর সংসদ উক্ত ভাষণ বা বাণী সম্পর্কে আলোচনা করিবেন। পহেলা এপ্রিল প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াক আউটের বিষয়ে স্পিকার জানিয়েছিলেন, বিরোধী দলীয় নেতা স্পিকারের পুরো কথা শুনেননি। কিন্তু বিরোধী দলের নেতার কথা স্পিকার শুনেছেন। স্পিকার বলেছেন, ওয়াকআউট করা বিরোধী দলের অধিকার। কিন্তু, একটু পরে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচিত হবে। যেখানে বিরোধী দলের নেতার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন এবং সেখানে মন খুলে কথা বলতে পারবেন। তাই স্পিকার অনুরোধ করেন পরের মুলতবি প্রস্তাবটি শোনার। কিন্তু তারপরও ওয়াকআউট করে সংসদ ত্যাগ করেন বিরোধী দল। এদিকে, সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক কর্তৃক আনীত জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব (বিধি-৬২) -এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও গণভোট অধ্যাদেশ’ নিয়ে ৫ এপ্রিল আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে এক দীর্ঘ আলোচনা করেন। যেখানে তিনি বলেন, গণভোট অধ্যাদেশে যে ৩০টি বিষয়ের তফসিল নির্ধারণ করা হয়েছে তা নিয়ে জাতীয় সংসদে এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আলাদা কোনো পদ্ধতির প্রয়োজন নেই; বরং সনদের মধ্যেই এর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। তিনি জানান,'জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ 'ভবিষ্যতের পথ রেখা'-একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন, সংযোজন পরিমার্জন'র বিষয়ে তিনি প্রস্তাবটি আনেন। বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ দলিল, যেখানে বাস্তবায়নের পদ্ধতি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত আছে। 'জুলাই সনদই তার বাস্তবায়নের পথ নির্দেশ করে, অতিরিক্ত কোনো কাঠামো বা পদ্ধতি এখানে প্রয়োজন নেই। আইনমন্ত্রী বলেন, গণভোট অধ্যাদেশে যে ৩০টি বিষয়ের তফসিল নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত নয়। অথচ এই অনুচ্ছেদে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচন করার বিষয়টি বাদ দেওয়া হলে তা সংবিধানের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হবে এবং জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটবে না। আইনমন্ত্রী বলেন, এমন আইন প্রণয়ন করা ঠিক নয়, যেখানে বাহ্যিকভাবে বৈধতা দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে তা সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে। এ ধরনের উদ্যোগ সংবিধানবিরোধী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। বলেন, জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক দলিল নয়; বরং বহু বছরের আন্দোলন, ত্যাগ, নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের ফল। ৩৩টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সনদ প্রণীত হয়েছে, যা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তাই এর বাস্তবায়নে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করেই সংশোধনী আনতে হবে। 'প্রতিটি সংশোধনই একেকটি সংস্কার, কিন্তু প্রতিটি সংস্কার সংবিধান সংশোধন নয়, এই পার্থক্য বুঝতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সংস্কারের ধারণা আসে, তা চূড়ান্তভাবে সংসদে আইন আকারে রূপ নিতে হলে সংবিধান সংশোধনের পথেই যেতে হবে। সংসদই সেই স্থান, যেখানে জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে এসব সংস্কারকে আইনি রূপ দেওয়া হয়। 'জুলাই সনদ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক, আগের সংবিধানকে অবমাননা করা বা বিশেষ কোন দল বা গোষ্ঠির ভবিষ্যতে ভালো-মন্দ সকল কিছুকে বৈধতা দিতে নয় বরং আগের সংবিধানে যে সকল দুর্বল আইনের জন্য বিভিন্ন সময় দেশে বিভিন্ন সরকার দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা আর দলীয় করণের জন্য জনগণকে শোষণ করতো, সে সকল দুর্বলতা দুরিকরণে এবং দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধানে সংযোজন বা বিয়োজনের মাধ্যমে এমন এক সংসদীয় পরিবেশ বজায় রাখা উচিত, যা নিয়ে পরবর্তী প্রজন্ম বর্তমান প্রজন্মকে নিয়ে গর্ব করতে পারে। কারণ, আইন মানুষের ভালো থাকার জন্য, আইন ভালো থাকার জন্য মানুষ নয়। দর্শক, নির্বাচনের পর বিএনপি’র গণেশ কি আসলেই উল্টে গিয়েছে কি-না, এ বিশ্লেষণ থেকে তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব আপনাদেরই।
১৪ ঘন্টা আগে