ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

হাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সরকার, শিশুমৃত্যুতে বাড়ছে শঙ্কা

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক মাস তিন দিনে মোট ২১৩ শিশুর মৃত্যু জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সরকারের বড় ধরনের দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৪০৯ জনে, যা পরিস্থিতিকে কার্যত একটি জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি; বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতার ফল এটি। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে হাম নির্মূলের লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে তা অর্জনের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকা কার্যক্রমে ঘাটতি, বিশেষ ক্যাম্পেইনের অভাব এবং সরবরাহ সংকট মিলিয়ে বড় একটি শিশুগোষ্ঠী টিকার বাইরে থেকে গেছে।মাঠপর্যায়ে টিকা সরবরাহে অনিয়মিততা এবং জনবল সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। টিকা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্য সহকারীদের অসন্তোষ ও আন্দোলনের কারণে অনেক সময় টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিশু নিয়মিত টিকার আওতায় আসেনি, যা সময়ের সঙ্গে বড় ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।বর্তমানে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ ৯ মাসের কম বয়সি শিশু, যা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সাধারণত এই বয়সে শিশুরা মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল থাকে। কিন্তু অপুষ্টি, ভিটামিনের ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত ইমিউনিটি ট্রান্সফারের অভাবে তারা সহজেই সংক্রমিত হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, সমস্যা শুধু টিকাদানেই সীমাবদ্ধ নয়; পুষ্টি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাও এখানে ভূমিকা রাখছে।সরকারি পর্যায়ে অতীতের গাফিলতির কথা স্বীকার করা হলেও বর্তমান উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। টিকার ঘাটতির কথা প্রকাশ্যে আসার পর জরুরি ভিত্তিতে ক্যাচ-আপ টিকাদান শুরু হলেও তা পরিস্থিতির তুলনায় যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা কার্যকর হতে সময় লাগে, তাই দ্রুত বিস্তার রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।জনস্বাস্থ্যবিদরা এই পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু চিকিৎসা নয়, প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, দ্রুত টিকাদান, অপুষ্টি মোকাবিলা এবং সচেতনতা বাড়ানো একসঙ্গে চালাতে হবে। একই সঙ্গে হাম মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল পুনর্বিবেচনা এবং বাস্তবায়নে জোর দেওয়া প্রয়োজন।বর্তমান পরিস্থিতি একটি সতর্কবার্তা-টিকাদান কর্মসূচিতে সামান্য শৈথিল্যও কীভাবে বড় সংকটে রূপ নিতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ এটি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

হাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সরকার, শিশুমৃত্যুতে বাড়ছে শঙ্কা