রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের মতো নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জীবন এখন চাপে পড়েছে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে মাসে ৫৮ হাজার টাকা আয় করলেও সংসারের হিসাব আর মিলছে না। ঘরভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও যাতায়াতে বড় অংশ খরচ হয়ে যাওয়ার পর গ্রামের বাড়িতে বাবা-মাকে টাকা পাঠিয়ে যে সামান্য থাকে, তা দিয়েই আগে বাজার চলত। কিন্তু কয়েক মাসে বাজার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এখন নিয়মিত ঋণ করতে হচ্ছে।
শুধু হাবিবুর নন, একই চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, আটা, ময়দা, সয়াবিন তেল, ডিম, মুরগি, মাছ থেকে শুরু করে সবজির দামও একসঙ্গে বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে প্রায় ২০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় উঠেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকার ওপরে। বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে, কিছু আবার ১০০ টাকাও ছাড়িয়েছে।
বিক্রেতাদের মতে, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং সাম্প্রতিক জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব একসঙ্গে পড়েছে বাজারে। ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকে, যা এখনো স্থিতিশীল হয়নি। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবেও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে পণ্যের দাম আরও বাড়ছে।
এদিকে এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ১২ কেজির সিলিন্ডার এখন প্রায় দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন খরচও বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ মনে করে, বাজারে একাধিক পণ্যের একযোগে মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়তে থাকায় মানুষ এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের মতো নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জীবন এখন চাপে পড়েছে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে মাসে ৫৮ হাজার টাকা আয় করলেও সংসারের হিসাব আর মিলছে না। ঘরভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও যাতায়াতে বড় অংশ খরচ হয়ে যাওয়ার পর গ্রামের বাড়িতে বাবা-মাকে টাকা পাঠিয়ে যে সামান্য থাকে, তা দিয়েই আগে বাজার চলত। কিন্তু কয়েক মাসে বাজার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এখন নিয়মিত ঋণ করতে হচ্ছে।
শুধু হাবিবুর নন, একই চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, আটা, ময়দা, সয়াবিন তেল, ডিম, মুরগি, মাছ থেকে শুরু করে সবজির দামও একসঙ্গে বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে প্রায় ২০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় উঠেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকার ওপরে। বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে, কিছু আবার ১০০ টাকাও ছাড়িয়েছে।
বিক্রেতাদের মতে, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং সাম্প্রতিক জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব একসঙ্গে পড়েছে বাজারে। ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকে, যা এখনো স্থিতিশীল হয়নি। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবেও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে পণ্যের দাম আরও বাড়ছে।
এদিকে এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ১২ কেজির সিলিন্ডার এখন প্রায় দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন খরচও বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ মনে করে, বাজারে একাধিক পণ্যের একযোগে মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়তে থাকায় মানুষ এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে।

আপনার মতামত লিখুন