ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

হাম কীভাবে ছড়ায় ? লক্ষণগুলো জেনে নিন


প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

হাম কীভাবে ছড়ায় ? লক্ষণগুলো জেনে নিন

দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। হঠাৎ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, আর চলতি মার্চ মাসেই কমপক্ষে ২১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

 চিকিৎসকরা বলছেন, টিকাদানের ঘাটতি, শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না পাওয়া, কৃমিনাশক সেবনে অনীহা এবং অপুষ্টিই এই সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক ও গলার মিউকাসে থাকা ভাইরাস কাশি, হাঁচি বা কাছাকাছি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।

 ভাইরাসটি বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে দূষিত বস্তু স্পর্শ করে চোখ, নাক বা মুখে হাত দিলেও সংক্রমণ হতে পারে।

হাম ছড়ানোর সাধারণ উপায়গুলো হলো-


১. আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে আসা

২. কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বায়ুবাহিত সংক্রমণ

৩. দূষিত বস্তু স্পর্শ করে মুখে হাত দেওয়া

 

বিশেষজ্ঞরা জানান, লক্ষণ প্রকাশের আগেই একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন। সাধারণত ফুসকুড়ি ওঠার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পর পর্যন্ত রোগটি সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে থাকে।

হাম ছড়ানোর সাধারণ উপায়

ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর দ্রুত গলা, ফুসফুস ও লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এটি চোখ, রক্তনালী এমনকি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। সংক্রমণের ৯ থেকে ১১ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।

 গবেষণায় দেখা গেছে, টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি- একই ঘরে বসবাসকারী প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন।


হামের প্রধান লক্ষণগুলো হলো-

• উচ্চ জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত)

• সর্দি, কাশি

• চোখ লাল ও পানি পড়া

• শরীরে লালচে ফুসকুড়ি

সাধারণত সংক্রমণের ১০-১৪ দিনের মধ্যে এসব লক্ষণ দেখা দেয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে যেখানে টিকাদানের হার কম। এই রোগ থেকে নিউমোনিয়া, কানের সংক্রমণ কিংবা মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


হাম কীভাবে ছড়ায় ? লক্ষণগুলো জেনে নিন

প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। হঠাৎ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, আর চলতি মার্চ মাসেই কমপক্ষে ২১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

 চিকিৎসকরা বলছেন, টিকাদানের ঘাটতি, শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না পাওয়া, কৃমিনাশক সেবনে অনীহা এবং অপুষ্টিই এই সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক ও গলার মিউকাসে থাকা ভাইরাস কাশি, হাঁচি বা কাছাকাছি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।

 ভাইরাসটি বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে দূষিত বস্তু স্পর্শ করে চোখ, নাক বা মুখে হাত দিলেও সংক্রমণ হতে পারে।

হাম ছড়ানোর সাধারণ উপায়গুলো হলো-


১. আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে আসা

২. কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বায়ুবাহিত সংক্রমণ

৩. দূষিত বস্তু স্পর্শ করে মুখে হাত দেওয়া

 

বিশেষজ্ঞরা জানান, লক্ষণ প্রকাশের আগেই একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন। সাধারণত ফুসকুড়ি ওঠার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পর পর্যন্ত রোগটি সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে থাকে।

হাম ছড়ানোর সাধারণ উপায়

ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর দ্রুত গলা, ফুসফুস ও লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এটি চোখ, রক্তনালী এমনকি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। সংক্রমণের ৯ থেকে ১১ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।

 গবেষণায় দেখা গেছে, টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি- একই ঘরে বসবাসকারী প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন।


হামের প্রধান লক্ষণগুলো হলো-

• উচ্চ জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত)

• সর্দি, কাশি

• চোখ লাল ও পানি পড়া

• শরীরে লালচে ফুসকুড়ি

সাধারণত সংক্রমণের ১০-১৪ দিনের মধ্যে এসব লক্ষণ দেখা দেয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে যেখানে টিকাদানের হার কম। এই রোগ থেকে নিউমোনিয়া, কানের সংক্রমণ কিংবা মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।



দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক ম‌হিউদ্দিন শিবলী ও মোহাম্মদ মহসীন
প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত