অনলাইন ডেস্ক: অনীক প্রযোজিত নাটক ‘আক্ষরিক’ বাংলা মুদ্রণ শিল্পের জনক পঞ্চানন কর্মকারের জীবন ও সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল। রজত চক্রবর্তীর উপন্যাস অবলম্বনে দেবাশিস নির্দেশিত এই নাটকে দেখা যায়, কীভাবে হাড়ভাঙা খাটুনি আর হাতুড়ির ঘায়ে বাংলা হরফ প্রাণ পেয়েছিল।
নাটকটি শুরু হয় পঞ্চাননের জন্মের রূপক দিয়ে, যেখানে তাঁর শিল্পই তাঁর প্রকৃত পরিচয় হয়ে ওঠে। চার্লস উইলকিন্সের তত্ত্বাবধানে বাংলা ব্যাকরণ ছাপার জন্য প্রতিটি অক্ষর নিজ হাতে তৈরি করেন তিনি। মঞ্চে আলো ও শব্দের ব্যবহারে সেই সৃষ্টির মুহূর্তগুলো এক একটি কবিতার মতো ধরা দেয়। কিন্তু সৃষ্টির আনন্দ যেমন আছে, তেমনি আছে হারানোর ভয়। শিল্পী ভয় পান তাঁর তৈরি হরফ কি তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করবে? শেষ পর্যন্ত প্রতারণা হরফ করেনি, করেছিলেন ইংরেজ শাসকরা। বই ছাপা হলেও সেখানে ব্রাত্য থেকে যায় শিল্পী পঞ্চাননের নাম।
অভাব, বৃষ্টি আর জরাকে উপেক্ষা করে শ্রীরামপুর মিশনে উইলিয়াম কেরির আহ্বানে পঞ্চাশোর্ধ্ব পঞ্চানন যখন আবার কাজে ফেরেন, তখন তা আর কেবল জীবিকা থাকে না, হয়ে ওঠে শিল্পের প্রতি একনিষ্ঠ প্রেম। মঞ্চে টাঙানো শাড়ি যেন মাতৃভাষার আঁচল হয়ে আগলে রাখে এই ইতিহাসকে। ‘আক্ষরিক’ কেবল একটি নাটক নয়, এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিটি অক্ষরের জন্মের পেছনে লুকিয়ে আছে এক শিল্পীর রক্ত, ঘাম আর অভিমানী লড়াই।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক: অনীক প্রযোজিত নাটক ‘আক্ষরিক’ বাংলা মুদ্রণ শিল্পের জনক পঞ্চানন কর্মকারের জীবন ও সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল। রজত চক্রবর্তীর উপন্যাস অবলম্বনে দেবাশিস নির্দেশিত এই নাটকে দেখা যায়, কীভাবে হাড়ভাঙা খাটুনি আর হাতুড়ির ঘায়ে বাংলা হরফ প্রাণ পেয়েছিল।
নাটকটি শুরু হয় পঞ্চাননের জন্মের রূপক দিয়ে, যেখানে তাঁর শিল্পই তাঁর প্রকৃত পরিচয় হয়ে ওঠে। চার্লস উইলকিন্সের তত্ত্বাবধানে বাংলা ব্যাকরণ ছাপার জন্য প্রতিটি অক্ষর নিজ হাতে তৈরি করেন তিনি। মঞ্চে আলো ও শব্দের ব্যবহারে সেই সৃষ্টির মুহূর্তগুলো এক একটি কবিতার মতো ধরা দেয়। কিন্তু সৃষ্টির আনন্দ যেমন আছে, তেমনি আছে হারানোর ভয়। শিল্পী ভয় পান তাঁর তৈরি হরফ কি তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করবে? শেষ পর্যন্ত প্রতারণা হরফ করেনি, করেছিলেন ইংরেজ শাসকরা। বই ছাপা হলেও সেখানে ব্রাত্য থেকে যায় শিল্পী পঞ্চাননের নাম।
অভাব, বৃষ্টি আর জরাকে উপেক্ষা করে শ্রীরামপুর মিশনে উইলিয়াম কেরির আহ্বানে পঞ্চাশোর্ধ্ব পঞ্চানন যখন আবার কাজে ফেরেন, তখন তা আর কেবল জীবিকা থাকে না, হয়ে ওঠে শিল্পের প্রতি একনিষ্ঠ প্রেম। মঞ্চে টাঙানো শাড়ি যেন মাতৃভাষার আঁচল হয়ে আগলে রাখে এই ইতিহাসকে। ‘আক্ষরিক’ কেবল একটি নাটক নয়, এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিটি অক্ষরের জন্মের পেছনে লুকিয়ে আছে এক শিল্পীর রক্ত, ঘাম আর অভিমানী লড়াই।

আপনার মতামত লিখুন