ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক দৃষ্টি

নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত, আহত কমপক্ষে ১০


প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত, আহত কমপক্ষে ১০
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন প্রতিবেদক:: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোর মো. মুস্তাকিম মিয়া (১৪) শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী মো. মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরাঞ্চলের সায়দাবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে দুটি পক্ষ সক্রিয়। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন হানিফ মাস্টার, অন্য পক্ষের নেতৃত্বে আছেন এরশাদ মিয়া। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় এর আগে নারীসহ আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ও অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এসব সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের একাধিক বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আগের এসব ঘটনার জেরে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আজ সকাল ছয়টার দিকে এরশাদের একদল অনুসারী আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িঘরে হামলা চালান। এ সময় হানিফ মাস্টারের অনুসারীরাও তাঁদের প্রতিরোধ করতে এগিয়ে যান। দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যেই এরশাদ পক্ষের গুলিতে বিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শিক্ষার্থী মুস্তাকিম। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ৩ জনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন—রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান মিয়া (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫)। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর বলেন, ‘আজ সকালে মৃত অবস্থায় কিশোর মুস্তাকিমকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর বুকের বাঁ পাশে গুলির চিহ্ন আছে। গুলিটি এপাশ থেকে ছিদ্র হয়ে ওপাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

নিহত মুস্তাকিমের মা শাহানা বেগম বলেন, ‘আজ সকালে আমার ছেলে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিল। ঝগড়া শুরুর পর এরশাদ পক্ষের মাসুম কাছাকাছি এসে মুস্তাকিনকে গুলি করে হত্যা করে। আমার বুক যারা খালি করছে, তাদের বিচার চাই।’

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক দৃষ্টি

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত, আহত কমপক্ষে ১০

প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

অনলাইন প্রতিবেদক:: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোর মো. মুস্তাকিম মিয়া (১৪) শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী মো. মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরাঞ্চলের সায়দাবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে দুটি পক্ষ সক্রিয়। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন হানিফ মাস্টার, অন্য পক্ষের নেতৃত্বে আছেন এরশাদ মিয়া। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় এর আগে নারীসহ আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ও অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এসব সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের একাধিক বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আগের এসব ঘটনার জেরে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আজ সকাল ছয়টার দিকে এরশাদের একদল অনুসারী আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িঘরে হামলা চালান। এ সময় হানিফ মাস্টারের অনুসারীরাও তাঁদের প্রতিরোধ করতে এগিয়ে যান। দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যেই এরশাদ পক্ষের গুলিতে বিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শিক্ষার্থী মুস্তাকিম। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ৩ জনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন—রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান মিয়া (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫)। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর বলেন, ‘আজ সকালে মৃত অবস্থায় কিশোর মুস্তাকিমকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর বুকের বাঁ পাশে গুলির চিহ্ন আছে। গুলিটি এপাশ থেকে ছিদ্র হয়ে ওপাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

নিহত মুস্তাকিমের মা শাহানা বেগম বলেন, ‘আজ সকালে আমার ছেলে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিল। ঝগড়া শুরুর পর এরশাদ পক্ষের মাসুম কাছাকাছি এসে মুস্তাকিনকে গুলি করে হত্যা করে। আমার বুক যারা খালি করছে, তাদের বিচার চাই।’

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


দৈনিক দৃষ্টি

প্রকাশক ও সম্পাদক মোহাম্মদ মহসীন প্রধান বার্তা সম্পাদক মোকাররম মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত