প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
পোস্টমর্টেম টেবিলে ৬৬৫ উন্নয়ন প্রকল্প, বাতিলের ঝুঁকিতে ধীরগতির উদ্যোগা
||
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে বাস্তবায়নাধীন ৬৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্প এখন ব্যাপক পর্যালোচনার মুখে পড়তে যাচ্ছে। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্য থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় নতুন করে তাদের প্রয়োজনীয়তা, প্রাসঙ্গিকতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা মূল্যায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যাচাই-বাছাইয়ে অপ্রয়োজনীয় বা সময়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রকল্প চিহ্নিত হলে সেগুলো বাতিলও হতে পারে।সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার পেছনে আটটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে অর্থ বিভাগ। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে উপস্থাপিত মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।পরিকল্পনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ২৪৪টি প্রকল্পের অগ্রগতি ৬০ থেকে ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া ২৪১টি প্রকল্পের অগ্রগতি ৩০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি ৬৬৫টি প্রকল্পের অগ্রগতি ৩০ শতাংশের নিচে, যা সরকারের বিশেষ নজরে এসেছে।মধ্যমেয়াদি নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী দিনে সরকার এমন প্রকল্পে বরাদ্দ অগ্রাধিকার দেবে, যেগুলো প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণে সরাসরি অবদান রাখতে সক্ষম। বিপরীতে, কম গুরুত্বপূর্ণ, বিলম্বিত বা অপর্যাপ্ত প্রস্তুতিসম্পন্ন প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ পুনর্বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে উন্নয়ন ব্যয়ের গুণগত মান ও সরকারি বিনিয়োগের কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।সরকারের বিশ্লেষণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির পেছনে কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্প অনুমোদনের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব, ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর দুর্বল সমন্বয়, মাঝপথে ব্যয় ও নকশা সংশোধন, অর্থ ছাড়ে জটিলতা এবং নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলো আরও সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে বেশ কিছু সংস্কার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্প গ্রহণের আগে কঠোর যাচাই ব্যবস্থা চালু করা, বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা তৈরি, ক্রয় কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন করা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের নিয়মিত পরিবীক্ষণ। এছাড়া আইবাস প্লাস প্লাস, আইএমইডি মনিটরিং সিস্টেম এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ড্যাশবোর্ড ব্যবহারের মাধ্যমে জবাবদিহি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু কম অগ্রগতির কারণে কোনো প্রকল্প বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাবেক সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ বলেন, কোনো প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়া মানে ইতোমধ্যে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। তাই প্রকল্প বাতিলের আগে নিশ্চিত করতে হবে, যেন বিনিয়োগ করা অর্থ পুরোপুরি অপচয় না হয়।এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি জানিয়েছেন, ৩০ শতাংশের কম অগ্রগতির প্রকল্পগুলো কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তবে কোনো প্রকল্পকে নির্বিচারে বাতিল করা হবে না। প্রয়োজন, প্রাসঙ্গিকতা ও বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত