প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
মাদক ব্যবসার নিরাপত্তায় বসানো ছিল সিসিটিভি ক্যামেরা, পর্যবেক্ষণ হতো ড্রোন উড়িয়ো
||
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :করতো মাদক ব্যবসা। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে মাদককারবারীদের পুরো আস্তানা ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তায় বসানো ছিল সিসিটভি ক্যামেরা। শুধু তাই নয়, ড্রোন উড়িয়ে চারপাশে নজর রাখতো মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। যেন আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযানের আগেই নিরাপদে সরে যেতে পারে মাদক ব্যবসায়ীর সাথে জড়িতরা।এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন র্যাব-১১’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট এইচ এম সাদ্দাদ হোসেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এলাকায় র্যাব-১১ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের আস্তানার আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাত। পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতো, যাতে অভিযানের আগাম তথ্য পেয়ে দ্রুত সরে যেতে পারে।অধিনায়ক বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে দেওভোগ লিচুবাগ এলাকায় সাদাপোশাকে তথ্য সংগ্রহে যায় র্যাবের গোয়েন্দা দল। তখন তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে র্যাবের তিন সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় র্যাব ও পুলিশ। অভিযানে একটি ড্রোন ও চারটি সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে ২৩৫ কেজি গাঁজা, ১১ হাজার পিস ইয়াবা, ৫টি পিস্তলের গুলি, ১০টি ছুরি-চাকু, ৭টি চায়নিজ কুড়াল, ২টি রামদা, ৩টি চাপাতি এবং নগদ ১১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া একটি টাকা গণনার মেশিন, ল্যাপটপ ও ওজন মাপার যন্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।এ ঘটনায় ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন, সোহেল রানা (৪০), আবদুর রাজ্জাক (৪০), জোবায়ের হোসেন (২২), শামীম আহম্মেদ (২২), মিঠুন (৩৪), ইমন প্রধান (২৬), মো. আকাশ (৩০), মো. রুবেল (৩৭), আরাফাত হোসেন (২৮), মো. সুজন (৩২), মো. হৃদয় মিয়া (৩২), মো. টুটুল খান (৩৮) ও রেজাউল করিম (৪৮)।র্যাব জানায়, চক্রটির মূল হোতা হিসেবে রাসেল ও রাশেদের নাম পাওয়া গেছে। তাঁদেরসহ মাদক কারবারের সাথে অর্ধশতাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত