প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
টিকা সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বড় বিপদের শঙ্কাা
||
কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত এক শিশুকে নিয়ে মুন্সীগঞ্জের রুবি আক্তারের হাসপাতালে ছুটে যাওয়ার ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি বড় সংকটকে সামনে এনেছে। জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার ঘাটতি এখন সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।হাসপাতালে গিয়ে টিকা না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হন রুবি আক্তার। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ধার করে টিকা সংগ্রহ করতে হয় তাকে। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন না থাকায় অনেক রোগীকে ফার্মেসি থেকে টিকা কিনতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে একটি ডোজের দাম প্রায় ৯০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ দুই ধরনের টিকার মধ্যে একটি, র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন বা আরআইজি, দেশে প্রায় অনুপস্থিত। অন্যদিকে অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিনও পর্যাপ্ত নেই। ফলে হাসপাতালগুলোতে সীমিত সংখ্যক টিকা দিয়ে রেশনিং করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও শুধু জরুরি রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে, বাকিদের বাইরে থেকে কিনতে বলা হচ্ছে।মুন্সীগঞ্জসহ একাধিক জেলা হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখন স্থানীয়ভাবে সীমিত বাজেটে টিকা কিনে কাজ চালানো হচ্ছে। এতে মাসের মাঝামাঝি সময়েই মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। শহরের বাইরে পরিস্থিতি আরও খারাপ, অনেক উপজেলায় টিকা একেবারেই নেই।একই সময়ে দেশের টিকাদান ব্যবস্থার আরেকটি বড় সংকট সামনে এসেছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির অধীনে থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুত কমে গেছে বলে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। কিছু টিকার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় গুদামে বাফার স্টক নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।তবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংকটের কথা পুরোপুরি স্বীকার করছে না। কর্মকর্তাদের দাবি, দেশে পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে সরবরাহ অব্যাহত আছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলছে হাসপাতাল ও মাঠপর্যায়ের চিত্র।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাফার স্টক না থাকা এবং টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জলাতঙ্কের মতো শতভাগ প্রাণঘাতী রোগের ক্ষেত্রে সময়মতো টিকা না পাওয়া প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত টিকা সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং কেন্দ্রীয় মজুত শক্তিশালী করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় স্বাস্থ্যসেবার এই ঘাটতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও জীবন দুটোকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত