প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি তেলের দামের ধাক্কায় অস্থির নিত্যপণ্যের বাজারা
||
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব এখন সরাসরি নিত্যপণ্যের বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছ ও মাংসের দামে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস কেজিপ্রতি এখন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল। খাসির মাংসের দামও ১১০০ থেকে ১২৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। একইভাবে মাছের বাজারেও দাম বেড়েছে। পাঙাশ ও তেলাপিয়া কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও অন্যান্য মাছ ৪২০ থেকে ৪৮০ টাকার নিচে মিলছে না।ব্যবসায়ীদের দাবি, ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এতে আড়ত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খরচ যুক্ত হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই খুচরা দামে প্রভাব পড়ছে। মাছ ও মাংস পরিবহনে আগের তুলনায় কয়েক হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে বলেও তারা জানান।অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। সরবরাহ চেইনের প্রতিটি স্তরে খরচ বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম নিয়মিতভাবে বাড়ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেট চাপে পড়ছে। অনেকেই মাছ-মাংস কেনার পরিমাণ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন।বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি সরাসরি পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে, যার ফলে নিত্যপণ্যের দামে দ্রুত প্রতিফলন ঘটে। তবে কার্যকর বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা না থাকলে এই মূল্যবৃদ্ধি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও পরিবহন খাতে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগ না নিলে নিত্যপণ্যের দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত