প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ধৈর্য ও সময়া
||
ইরান সংকট এখন ধীরে ধীরে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা থেকে সরে গিয়ে এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ধৈর্যের লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে। এখানে গোলাবারুদ বা বিমান হামলার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সময়, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, এই ধরনের যুদ্ধে সময়কে তিনি বড় বাধা হিসেবে দেখেন না। তাঁর মতে, কয়েক সপ্তাহের সামরিক অভিযানকেই অনেকে দীর্ঘ যুদ্ধের সমান করে দেখছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।ইতিহাস বলছে, যুদ্ধ দ্রুত শুরু হলেও তার ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ নিতে পারে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দ্রুত সামরিক জয় পেলেও পরবর্তীতে দেশটি বহু বছর ধরে অস্থিরতা ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। বাগদাদের পতনের পর রাজনৈতিক শূন্যতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক চাপও বড় ভূমিকা রাখছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম কমবে, তবে নীতিনির্ধারকদের মধ্যেই সময় নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।অন্যদিকে ইরান এই পরিস্থিতিকে সময়ের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তাদের হিসাব হলো, দীর্ঘ সময় ধরে চাপ সহ্য করার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত আলোচনায় তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক-এই তিন ধরনের চাপ একসঙ্গে প্রয়োগ করছে। ওয়াশিংটনের ধারণা, এই বহুমুখী চাপ ইরানকে একটি অনুকূল চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে।সব মিলিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত—দীর্ঘ এই চাপের খেলায় কে আগে ভেঙে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র কি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সামলে টিকে থাকতে পারবে, নাকি ইরানই শেষ পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য হবে। এই সংঘাত এখন আর শুধু যুদ্ধের বিষয় নয়; এটি সময়, কৌশল এবং রাষ্ট্রীয় ধৈর্যের এক কঠিন পরীক্ষা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত