প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬
টুপি ও সুগন্ধি আতরের খোঁজে ক্রেতারাা
||
অনলাইন ডেস্ক: ঈদের ছুটিতে দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। পোশাক, জুতা, সাজসজ্জার কেনাকাটা শেষে ভিড় এখন টুপি, আতর আর জায়নামাজের দোকানে। রাজধানীর অভিজাত বিপণিকেন্দ্র থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে জমেছে এই কেনাকাটা।ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ বাজারের শেষ দিকের এই সময় টুপি ও আতরের বাজারে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়।এবার বিক্রেতাদের অভিজ্ঞতা মিশ্র। কেউ কেউ অনেক বেশি বিক্রির কথা বলছেন, আবার কেউ আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ার কথা বলেছেন।দেশে টুপির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মার্কেট, চকবাজার ও গুলিস্তানের খদ্দর বাজার মার্কেট।জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, এবারের ঈদে সাধারণ গোল টুপির পাশাপাশি বাহারি নকশার টুপির চাহিদা বেশি।বাজারে পাওয়া যাচ্ছে হাতে বোনা জালি টুপি ও সুতি কাপড়ের নকশা করা টুপি। এসব টুপির দাম ৫০ থেকে ৫০০ টাকা। এ ছাড়া চীন, ওমান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের টুপির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে তুর্কি ও পাকিস্তানি কারুকাজ করা টুপিগুলো তরুণদের পছন্দের শীর্ষে।এসব টুপির দাম ৫০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা।বিক্রেতারা জানিয়েছেন, চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, থাইল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইয়েমেন, লেবানন, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে টুপি আমদানি করা হয়। সবচেয়ে বেশি টুপি আসে চীন থেকে। কম দাম ও দেখতে চকচকে হওয়ায় বাজারে চীনে তৈরি টুপির চাহিদা বেশি। তবে যাঁরা একটু ভালো মানের অভিজাত টুপি চান, তাঁরা তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসর থেকে আসা টুপি কিনছেন।জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মার্কেটের রুবাই ফ্যাশনের ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘পাকিস্তানি ও তুর্কি টুপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তরুণরা এই টুপিগুলোই এসে খুঁজছেন।’ব্যবসায়ীরা জানান, শবেবরাতের আগে থেকে কারখানাগুলোতে টুপি তৈরির কাজ শুরু হয়, যা ঈদের আগ পর্যন্ত চলে। এরপর খুচরা বাজারে টুপির বিক্রি বেশ জমে ওঠে। রমজানের পাশাপাশি কোরবানির ঈদেও টুপির ব্যাপক চাহিদা থাকে।শাহজাহানপুর থেকে আলী আহমেদ তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মার্কেটে টুপি কিনতে এসেছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘পোশাকের পাশাপাশি টুপিও আমরা প্রতিবছর কিনি। নতুন টুপি পরে ঈদের নামাজে যাই সবাই।’জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ‘আল রিহ্যাব ক্যাপ অ্যান্ড টুপি’ দোকানের মালিক শফিক আহমেদ বলেন, ‘গত দু-তিন বছরের তুলনায় এ বছর আমাদের ব্যবসা ভালো হয়েছে। প্রতিদিন ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার টুপি বিক্রি হচ্ছে।’আতরের ব্যবসাও বেশ জমে উঠেছে। বিক্রেতারা জানান, দেশের বাজারে থাকা বেশির ভাগ আতর মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয়। দুবাইয়ের আল-রিহাব, আল-হারামাইন, এহসাস আল আরব, ডানহিল ডিজার, জমজম এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিলড আতর ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়। মানভেদে ১০০ থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যের আতরও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মার্কেটের এমদাদিয়া স্টোরের কর্মী রহমত জানান, শবেবরাত থেকে তাঁদের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে আতর সংগ্রহ করছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় আতরের বেচাকেনা এবার ভালো। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা আতরের চাহিদা বেশি।গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনলাইনে টুপি-আতর কেনাকাটায় বড় জোয়ার এসেছে। ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে টুপি ও আতরের ঘ্রাণ বর্ণনা করায় বিক্রির হার বেড়েছে। এ ছাড়া ব্যস্ততার কারণে অনেকে এখন নামি ব্র্যান্ডের আতর, যেমন—আল-হারামাইন বা আজমলের পণ্য অনলাইনে অর্ডার করছেন।এদিকে রমজানে জায়নামাজের বিক্রি কিছুটা বাড়লেও টুপি-আতরের মতো ব্যবসা হয়নি। তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের জায়নামাজ বাজারে বেশি পাওয়া যায়, দাম ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে।সোহান স্টোরের কর্ণধার বলেন, ‘একটা জায়নামাজ অনেক বছর টেকে। এতে প্রতিবছর ঈদে অন্য পণ্যের মতো সবাই নতুন জায়নামাজ কেনেন না। এভাবেই আমাদের ব্যবসা চলে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। জায়নামাজে লাভও কম।’
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত